দাম কিছুটা বেড়ে গেলেও ভারতে স্বর্ণের ক্রয় চাহিদা বাড়ছে। আসন্ন উৎসব মৌসুম ঘিরে গহনার দোকানগুলোয় মূল্যবান ধাতুটির মজুদ করতে শুরু করেছেন দেশটির ব্যবসায়ীরা। তবে চীনসহ এশিয়ার অন্যান্য প্রধান বাজারে স্বর্ণের লেনদেন কমেছে। খবর রয়টার্স।
ভারতের স্থানীয় বাজারে গতকাল প্রতি ১০ গ্রাম স্বর্ণ প্রায় ১ লাখ ২ হাজার রুপিতে বেচাকেনা হয়েছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে দেশটিতে মূল্যবান ধাতুটির দাম রেকর্ড ১ লাখ ২ হাজার ২৫০ রুপিতে পৌঁছেছিল। চেন্নাইভিত্তিক এক বুলিয়ন ব্যবসায়ী বলেন, ‘অনেক দিন ধরে গহনা ব্যবসায়ীরা অপেক্ষায় ছিলেন। এখনো দাম না কমায় এবার উৎসবের আগে তারা ক্রয় শুরু করেছেন। অক্টোবরে দশেরা ও দীপাবলি উৎসবকে ঘিরেই এ কেনাকাটা হচ্ছে।’
ভারতীয় ডিলাররা চলতি সপ্তাহে প্রতি আউন্স স্বর্ণে সর্বোচ্চ ৪ ডলার পর্যন্ত মূল্য সংযোজন (প্রিমিয়াম) করে বেচাকেনা করছেন। আগের সপ্তাহে মূল্যছাড় ও প্রিমিয়ামের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে আউন্সপ্রতি ২ ও ৩ ডলার।
মুম্বাইভিত্তিক এক বুলিয়ন ব্যবসায়ী বলেন, ‘গত তিন মাস স্বর্ণ প্রায় ১ লাখ রুপির কাছাকাছি দামে বেচাকেনা হচ্ছে। ক্রেতারা ধীরে ধীরে এ দামেই ক্রয় শুরু করেছেন।’
অন্যদিকে বিশ্বের শীর্ষ স্বর্ণ ব্যবহারকারী দেশ চীনে চলতি সপ্তাহে লেনদেন ছিল সীমিত। এ সময় দেশটিতে বৈশ্বিক স্পট দামের সমান বা সর্বোচ্চ ৫ ডলার প্রিমিয়ামে স্বর্ণ বেচাকেনা হয়েছে। গত সপ্তাহে এ মূল্য সংযোজনের পরিমাণ ছিল ৩ থেকে ৮ ডলার। সাংহাই গোল্ড এক্সচেঞ্জে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, চীনা মুদ্রা রেনমিনবিতে স্বর্ণের দাম এখনো অনেক বেশি। নতুন কোনো আমদানি কোটার ঘোষণা না থাকায় বেচাকেনা আরো কমেছে।
হংকং ও সিঙ্গাপুরে প্রতি আউন্স স্বর্ণ বৈশ্বিক দামের সমান বা সর্বোচ্চ আউন্সপ্রতি ২ ডলার ৫০ সেন্ট প্রিমিয়ামে বিক্রি হয়েছে। জাপানে লেনদেন হয়েছে স্পট মার্কেটের সমান মূল্যে। টোকিওভিত্তিক এক ব্যবসায়ী জানান, ‘দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় স্বর্ণের ক্রয়প্রবণতা অনেক কমেছে। এমনকি তাদের নিজেদের কাছে থাকা স্বর্ণও বিক্রি করে দিচ্ছেন।’